BANGLADESH YOUTH ASPIRATION AND PROGRAM
February 25, 2025 at 05:14 AM
প্রশ্নঃ রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামি হুকুম কি?
উত্তরঃ ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা বা "ইসলামী হুকুম" মূলত ইসলামের নীতি ও আদর্শ অনুসারে শাসন ব্যবস্থা চালানোর ধারণা। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায়, শাসক ও জনগণ উভয়ের জন্যই কিছু মৌলিক নীতি রয়েছে, যা ইসলামের ধর্মীয় আদেশ, যেমন শরিয়া আইন, উপর ভিত্তি করে গঠন করা হয়। -এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:
1_শরিয়া আইন:
ইসলামী শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি হচ্ছে শরিয়া আইন, যা কুরআন এবং হাদীসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মাধ্যমে একটি মুসলিম সমাজে ন্যায় বিচার, অর্থনীতি, সামাজিক সম্পর্ক, এবং পারিবারিক জীবন পরিচালিত হয়।
2_তাওহিদ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস:
ইসলামি রাষ্ট্রে শাসকরা বিশ্বাস করেন যে, তারা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে শাসন করছেন এবং আখিরাতে তাদের দায়িত্বের জন্য হিসাব দিতে হবে। এটি শাসককে ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে।
3_অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম:
ইসলামিক শাসন ব্যবস্থায় শাসকের মূল দায়িত্ব হচ্ছে অন্যায় ও দুর্নীতি নির্মূল করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়।
4_মাজলিস (পরামর্শ সভা):
ইসলামে জনগণের মতামত নেওয়া এবং শাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য শাসকরা পরামর্শ সভা বা মাজলিসের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। এতে শাসকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে জনগণের মতামত এবং দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে।
5_বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা:
ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় শিক্ষা, বিশেষত ধর্মীয় শিক্ষা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মুসলিমের উপর নির্ধারিত একটি শিক্ষার প্রক্রিয়া রয়েছে, যা তাদের নৈতিক, আধ্যাত্মিক, এবং সামাজিক উন্নতির জন্য সাহায্য করে।
6_অর্থনীতি:
ইসলামী অর্থনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে ন্যায়সঙ্গত বিতরণ, সুদমুক্ত অর্থনীতি, এবং জাকাত। ইসলামী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের অর্থনীতি জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, এবং গরিবদের সাহায্য করা বাধ্যতামূলক।
7_মানবাধিকার ও সমতা:
ইসলামে সব মানুষকে সমান অধিকার প্রদান করা হয়। মুসলিম কিংবা non-Muslim, পুরুষ বা নারী, সবাই সমানভাবে অধিকারী।
এই সব নীতির মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি ন্যায়পূর্ণ, শান্তিপূর্ণ, এবং অর্থনৈতিকভাবে সুস্থ সমাজ গঠন করতে চায়।।
-বাংলাদেশ ইয়ুথ এস্পিরেশন এন্ড প্রোগ্রাম।
"সকলের তরে সকলে আমরা"