Al-Huda wa An-Noor
Al-Huda wa An-Noor
June 19, 2025 at 01:18 PM
ইহুদি ও মুশরিকের লড়াই-৪ ---- দ্বিতীয় প্রমাণ খোমেনি অন্যতম স্বপ্ন ছিল ইরাক দখল করে নাজাফ-কারবালা শহরগুলো ইরানের অধীনে নিয়ে আসা। খোমেনি বিপ্লবের পরের বছরই (১৯৮০-৮৮) ইরাক-ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যারা খোমেনিকে কাছ থেকে দেখেছে, তারা জানে খোমেনি ও তার একান্ত সহচররা ইরাক ও ইরাকিদের প্রতি কী পরিমাণ ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করত। অথচ ইরাকি সরকার ও জনগণ খোমেনির ১৩ বছরের নির্বাসনকালে তার প্রতি সীমাহীন এহসান করেছিল। মুশরিকদের শিয়াদের বিশেষ করে খোমেনির জন্মগত স্বভাব। শিয়া মুশরিকরা এমনই, যে হাত তাদের দিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে, প্রয়োজন ফুরোলে সে হাতেই তারা কামড় বসিয়ে দিতে দ্বিধা করে না। খোমেনি ক্ষমতায় বসতে না বসতেই ইরাকসীমান্তে হানা দিতে শুরু করেছিল। ইরাকি সীমান্তরক্ষীদের নানাভাবে উত্যক্ত-নাজেহাল করে চলেছিল। বারবার সীমান্ত অতিক্রম করে ইরাকি এলাকায় খোমেনির বাহিনী অনুপ্রবেশ করছিল। খোমেনি নানাভাবে ইরাককে যুদ্ধে জড়ানোর জন্য উস্কানি দিয়ে যাচ্ছিল। সাদ্দাম তখন ক্ষমতা সুসংহত করার কাজে নিমগ্ন ছিল। বার্থপার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাকর্মীদের ওপর ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছিল। সাদ্দাম অভ্যন্তরীন যুদ্ধেই আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল। দেশের বাইরে আরেকটা যুদ্ধফ্রন্ট খোলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা সাদ্দামের ছিল না। খোমেনির উস্কানি সাদ্দামকে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করেছে। আমাদেরকে বলা হয়েছে, সাদ্দামই ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে, ইরানে ইসলামী বিপ্লবকে সহ্য করতে না পেরে হামলা করেছে। আরব বিশ্বের লেখক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদও এই মতবাদে বিশ্বাসী। তাকিয়াবাজ খোমেনি এই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে শতভাগ সফল হয়েছে। কী পরিমাণ ইরানি উস্কানির পর সাদ্দামের ধৈযের বাঁধ ভেঙেছিল, সেটা কেউ বলে না। খোমেনির কাছের লোকেরাই বলেছিল। আবদুল করিম মুসাভি, তালেব রিফাই, রশিদ খিউন প্রমুখ খোমেনি সম্পর্কে মুখ খুলেছে। সাদ্দাম হোসাইনের লেজে পা দিয়ে কেউ পার পায়নি। খোমেনির কাঙ্খিত যুদ্ধ বেঁধে গেল। একটানা আটবছরের যুদ্ধে দুটি দেশই জ্বলেপুড়ে খাক হওয়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। সাদ্দাম বারবার যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। খোমেনির কাছে ওলামায়ে কেরামের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। খোমেনি প্রত্যাখ্যান করেছে বারবার। পরে বাধ্য হয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। খোমেনি এই সম্মতিকে ‘বিষ গেলা’ আখ্যায়িত করেছিল। যুদ্ধবিরতির অল্প পরেই (১৯৮৯) খোমেনি জাহান্নামী হয়েছিল। খোমেনি সম্পর্কে চারদিকে রটানো হয়েছিল, সে প্রচণ্ড আমেরিকাবিরোধী। বড় শয়তান আমেরিকার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামকারী। আমাদেরকে বলা হয়, খোমেনি প্রচণ্ড ইসরায়েলবিরোধী। অথচ ঘটনা উল্টো। ইরাকের নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটিতে ইরানই আগে হামলা করেছিল ১৯৮০ সালে। তারপর ইরানিরা তাদের সংগৃহিত তথ্য ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছিল। ইসরায়েল ১৯৮১ সালের ইরাকি নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটির ওপর হামলা চালিয়ে সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল। ইরাক-ইরান যুদ্ধে ইরানের সাথে ইসরায়েলের গলায়-গলায় খাতির ছিল। ইরান দিত তেল, ইসরায়েল দিত অস্ত্র। সেই অস্ত্র দিয়ে ইরান হত্যা করত ইরাকি আরব ও মুসলমানদের। তৃতীয় প্রমাণ সাদ্দাম জীবনের সবচেয়ে মারাত্মক ভুলটা করেছিল ১৯৯০ সালে কুয়েতে হামলা চালিয়ে। এই চরম বোকামির খেসারত সাদ্দামকে বাকি জীবন দিয়ে যেতে হয়েছে। তার মাথায় কোন ভূত চেপেছিল, আল্লাহমালুম। সাদ্দামের হাত থেকে কুয়েত রক্ষা করতে গোটা বিশ্বকে সাথে নিয়ে আমেরিকা এগিয়ে এসেছিল। তখন সুযোগ বুঝে ইরানও আমেরিকার সাথে যোগ দিয়েছিল। আমেরিকার হাতে হাত রেখে ইরাকবিরোধী লড়াইয়ে শরীক হয়েছিল। ইরাক দখলের খাহেশ তখনো ইরানের যায়নি। ২০০৩ সালের এপ্রিলে যখন মার্কিন বাহিনী বাগদাদে প্রবেশ করেছিল, তখন সাদ্দামের চূড়ান্ত পতন হয়েছিল। সাথে সাথে আমেরিকার হাত ধরে শুরু হয়েছিল বাগদাদে ইরানের উত্থান। ইরান গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাগদাদের যে শোচনীয় অবস্থা করেছে তার তুলনা বুয়াইহি, কারামতি, ফাতেমি, মোঙ্গল যুগে সংঘটিত সম্মিলিত বিপযয়কে হার মানাবে। অতীতে বুয়াইহি, কারামতি, ফাতেমি, মোঙ্গলরা বাগদাদ ও আহলে সুন্নাতের ওপর যে গণহত্যা, জুলূম নিযাতন চালিয়েছিল, ইরান গত ২০ বছরে একাই তার চেয়ে হাজারগুন বেশি জুলুম-হত্যা করেছে। সিরিয়া-ইয়ামান বাদ দিয়ে, শুধু বাগদাদে ইরান কী করেছে, সেটা দেখার পর ন্যূনতম বোধবুদ্ধি থাকলেও কোনো ‘ইসলামিস্ট’ (!) ইরানের পক্ষে সাফাই গাইতে পারে না, ইরানের পক্ষাবলম্বন করতে পারে না। ন্যূনতম বিবেকবোধ থাকলেও কোনো ‘ইসলামিস্ট’ সাদ্দামের শাসনামলের বাগদাদ ও ইরানি আগ্রাসনপরবর্তী বাগদাদের তুলনা করতে পারে না। তারপর ইরানের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ‘ইসলামিস্ট’ যুক্তি তুলে ধরে বলে, জাতশত্রু ইরাকের বিরুদ্ধে ইরান সুযোগ কাজে লাগাবে না? -আচ্ছা, সুযোগ কাজে লাগানোর মানে ‘বড় শয়তান’ আমেরিকার সাথে যোগ দেয়া? একটা দেশকে ছারখার করে দেয়া? লাখো সুন্নী মুসলমানকে গুম-খুন-হত্যা-নির্বাসিত করা? চতুর্থ প্রমাণ চলবে…
❤️ 🩷 2

Comments